পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে চলমান অস্থিতিশীলতা, সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সিএইচটি সম্প্রীতি জোট। সংগঠনটি এক বিবৃতিতে সকল আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনকে অস্ত্রের রাজনীতি, চাঁদাবাজি, গুম, অপহরণ ও হত্যার মতো মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে সরে এসে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে।
সংগঠনের মুখপাত্র পাইশিখই মারমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম একটি বহুজাতিক ও সংস্কৃতিগতভাবে সমৃদ্ধ অঞ্চল, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জাতিসত্তার মানুষ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বসবাস করে আসছে। কিন্তু কিছু গোষ্ঠীর স্বার্থকেন্দ্রিক সশস্ত্র কার্যক্রম ও আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতা এ অঞ্চলের স্বাভাবিক পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী। চাঁদাবাজি, অপহরণ, গুম ও হত্যার ঘটনায় ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও কৃষকসহ সব শ্রেণির মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। এ পরিস্থিতি শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়, বরং উন্নয়ন কার্যক্রমকেও বাধাগ্রস্ত করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সহিংসতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও বিনিয়োগ—সব ক্ষেত্রেই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
পাইশিখই মারমা জোর দিয়ে বলেন, অস্ত্রের মাধ্যমে কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। সংলাপ, সহনশীলতা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাই হতে পারে স্থায়ী শান্তির পথ।
সিএইচটি সম্প্রীতি জোট আরও জানায়, পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সকল জাতিসত্তার মধ্যে আস্থা ও সহযোগিতা বাড়ানো জরুরি। এ লক্ষ্য অর্জনে তারা সকল রাজনৈতিক, সামাজিক ও আঞ্চলিক সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানায়।
এছাড়া সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের প্রতিও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতির শেষাংশে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখা সবার দায়িত্ব, এবং সহিংসতামুক্ত একটি সমৃদ্ধ অঞ্চল গড়তে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।